সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩১ অপরাহ্ন

ভূমি অফিসের ধর্ষক আবির যখন প্রকাশ্যে খুঁজে পায় না পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥
তেজগাঁও ভূমি অফিসের কর্মচারী আবিরের বিরুদ্ধে চাকরিজীবী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে আসামিকে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধান স্লিপ থাকলেও রহস্যজনক কারণে ধর্ষক আবিরকে গ্রেপ্তার করছে না রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে আবির তেজগাঁও থানা এলাকা দিয়েই চলাচল করছে। পাশাপাশি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ফোনটিও সচল রয়েছে।
মামাল সূত্রে জানা গেছে, বছরখানেক পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভিকটিম পাখির (ছদ্মনাম) সঙ্গে পরিচয় হয় তেজগাঁও রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে কর্মরত আবির হাসনাতের সঙ্গে। গত বছর ২২ নভেম্বর পাখিকে নিয়ে পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটি জেলার সাজেক ভ্যালিতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করে আবির হাসনাত। সরল বিশ্বাসে পাখি তার সঙ্গে এক বান্ধবীকে নিয়ে আবিরের সঙ্গে প্রাইভেটকার করে সাজেক ঘুরতে যান। সেখানেই পাখির জীবনে নেমে আসে এক অন্ধকার অধ্যায়। সাজেক পৌঁছে আবির সাজেক ভ্যালি এলাকার গরবা আবাসিক হোটেলে দুইটি রুম ভাড়া করেন থাকার জন্য। সেখানে এক রুমে পাখি ও তার বান্ধবী থাকেন। এরপর আবিরের আমন্ত্রণে পাখি তার সঙ্গে সজেক হেলিপ্যাডে ঘুরতে যান। পরে রাতে হোটেলে ফিরে আসেন তারা। কিছুক্ষণ পর পাখির সঙ্গে জরুরি কথা আছে বলে পাখিদের রুমে প্রবেশ করে পাখির বান্ধবীকে অন্য রুমে যেতে বলেন। পাখির বান্ধবী অন্য রুমে চলে গেলে আবির পাখিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করলে প্রথমে পাখি তা প্রত্যাখান করেন। এরপর আবির বিভিন্ন প্রলোভনে প্রতারণামূলক পাখির সঙ্গে শারীরিক (দৈহিক) সম্পর্ক করে। পরে আখি ২৪ নভেম্বর সেখান থেকে ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকায় এসে পাখি আবিরকে বিয়ের জন্য বললে পাখিকে বিয়ে করার জন্য বিয়ের শাড়ি কাপড়সহ অন্যান্য জিনিষপত্র ক্রয়ের কথা বলে সময় ক্ষেপণ করে। এক পর্যায়ে আবির পাখিকে জানায় তার শারীরিক যে সম্পর্ক হয়েছে এতদিনে তার কোনো প্রমাণ নেই এবং পাখির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে পাখি (ছদ্মনাম) রাঙামাটির সাজেক থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ০২, ২৯/১২/২০২০, ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন/২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১)। এদিকে মামলা হওয়ার কয়েকমাস পার হয়ে গেলেও প্রতারক ধর্ষক আবির হাসনাতকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে ভিকটিম পাখি (ছদ্মনাম) জানান, তার সরলতার সুযোগ নিয়ে আবির তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। আবিরকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের দ্বারে দ্¦ারে ঘুরেও কোনো লাভ হচ্ছে না। তবে সাজেক থানাপুলিশ তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আবিরকে আইনের আওতায় আনার। এজন্য আখি ঢাকা থেকে সাক্ষীদের নিয়ে সাজেক থানায় গিয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ হস্তান্তর করে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাজেক থানা থেকে আসামি আবিরের বর্তমান ঠিকানা (ঢাকার তেজগাঁও) অনেক দূর থাকায় থানা পুলিশ আবিরকে গ্রেপ্তার ও ঠিকানা যাচাই করে আদালতে সোপর্দ করতে একটি অনুসন্ধান স্লিপ পাঠিয়েছেন। তবে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাপুলিশ এখনো আবিরকে গ্রেপ্তার করেননি।
এদিকে ধর্ষক আবিরের মোবাইল ফোন এখনো সচল রয়েছে। তিনি নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে আবির হাসনাতের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, মামলার বাদী তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন। তারা পূর্ব পরিচিত হওয়ায় বাদীর আমন্ত্রণে সাজেগ ঘুরতে গেছেন। তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। মামলার বাদী আবিরের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল, সেই টাকা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। ভিকটিম (মামলার বাদী) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে ভিকটিমের বয়সের চেয়ে আবিরের বয়স কম থাকায় ও বিভিন্ন কারণে তিনি তার প্রস্তাবে রাজি হননি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আবিরকে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আবার বেশকিছু মহল এই মামলা ধামাচাপা দিতেও পাঁয়তারা করে আসছে। আবির প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারছে না।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2014
Design & Developed BY ithostseba.com