রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

কোয়ারেন্টিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কাজে টঙ্গীর ইজতেমার মাঠ ব্যবহার করতে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর

স্টাফ রিপোর্টার:

করোনা ভাইরাসের কারণে কোয়ারেন্টিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কাজে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠ ব্যবহার করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে তুরাগ তীরের ওই মাঠ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের প্রস্তুতি বিষয় জানাতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

 

মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে এই রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও অনেক হাসপাতাল চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে প্রায় দুই হাজার শয্যার ব্যবস্থা করা যাবে। তার পরও আরো বড় জায়গার প্রয়োজন হলে সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সে জন্যই বিশ্ব ইজতেমার জায়গাটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় যদি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তাহলে প্রয়োজনে ওই এলাকাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হবে।

মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ১৭ জন করোনায় আক্রান্ত বলে চিহ্নিত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগের বাড়ি মাদারীপুর ও ফরিদপুর জেলায়। এ তথ্য জানাতে গিয়ে মন্ত্রী মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেন। জাহিদ মালেক বলেন, যদি অবস্থার আরও অবনতি হয় তাহলে ওই সব এলাকা লকডাউন করা হবে। অবশ্য গতকাল থেকে শিবচরকে লকডাউন করা হয়েছে।

 

লকডাউন নিয়ে প্রশ্নের  জবাবে মন্ত্রী বলেন, চীন করোনা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে লকডাউনের মাধ্যমে। অন্যান্য দেশও চীনকে অনুসরণ করছে। আমরাও অবশ্যই সে এলাকা লকডাউনে নিয়ে যাব। আমাদের দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে করোনা থেকে। লকডাউন করাটাই আক্রান্ত এলাকার জন্য একমাত্র উপায়। যার মাধ্যমে আমরা ভাইরাসটি ছড়িয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে নিতে পারব। সেজন্য আমরা সেসব এলাকা বেশি ক্রিটিক্যাল মনে করছি। আগামীতে সেখানে যদি সত্যিই সংক্রমণ বেড়ে যায়, তাহলে আমরা লকডাউন করে দেবো।  অন্যদিকে গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদও বলেছেন, একটি বিশেষ এলাকার লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। এছাড়া করোনা রোধের প্রস্তুতি হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাব চলাকালীন সময়ে ও পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা, নার্স, চিকিৎসক ছুটি প্রাপ্য হবেন না। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট ১৭ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী আছে। ১৭ জনের সবাই বিদেশ ফেরত ব্যক্তি অথবা তাদের আত্মীয়-স্বজন। একারণে বিদেশ থেকে আর কোনো ব্যক্তি এই মুহূর্তে দেশে না এলে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সহজতর হবে। করোনা ভাইরাসের সময় বিভিন্ন স্থানে বিয়ে, গণজমায়েত হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, করোনা রোগটি মারাত্মক ছোঁয়াচে। এজন্য এই মুহূর্তে দেশে কোনো রকম গণসমাবেশ আয়োজন করা যাবে না। বিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। স্কুল-কলেজ আগেই বন্ধ করা হয়েছে। এখন সৌদি আরবের মতো আমাদের দেশেও জুমার নামাজ জমায়াতের সঙ্গে না পড়ে ঘরেই পড়তে হবে। কোয়ারেন্টিনে মানুষ নিয়ম মানছে না বলে প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা জোড়ালো করতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ সময়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2014
Design & Developed BY ithostseba.com