রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

লিটনের দুর্দান্ত বেটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাইগারদের বিশাল জয়

স্পোর্টস ডেস্ক:

জিম্বাবুয়েকে দাঁড়াতেই দিলো না বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ আরও দাপুটে। ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে সিরিজ নিশ্চিতের সঙ্গে আফ্রিকান দলটিকে ধবলধোলাইয়ের লজ্জাও দিয়েছে মাহমুদউল্লাহরা। দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ জিতেছে ২-০তে।

 

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করে ১১৯ রান। সহজ এই লক্ষ্য শুধু মোহাম্মদ নাঈমের উইকেটটি হারিয়ে ২৫ বল আগেই টপকে যায় বাংলাদেশ। এরই সঙ্গে টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করার আনন্দে মাতে স্বাগতিকরা।

 

এবারই প্রথম ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করলো বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ম্যাচ ও সিরিজসেরার পুরস্কার জেতা লিটন দাসের হার না হাফসেঞ্চুরিতে সফরকারীদের সহজেই হারিয়েছে তারা।

 

ব্যাটে বসন্ত চলছে লিটনের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুই সেঞ্চুরির পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে করেছিলেন হাফসেঞ্চুরি। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম দেখলো আরেকটি লিটন-ম্যাজিক। ডানহাতি ওপেনার পেয়েছেন কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয় ফিফটি। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩৯ বলে খেলেছিলেন ঝড়ো ৫৯ রানের ইনিংস। আর আজ টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করতে তার লেগেছে ৩৫ বল। দলের জয় নিশ্চিত করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন ৬০ রানে। ৪৫ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৮ বাউন্ডারিতে। তার সঙ্গে ১৬ বলে অপরাজিত ২০ রান করেছেন আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক সৌম্য সরকার।

 

তামিম ইকবালের অভাব টের পেতে দেননি নাঈম। ফর্মে থাকা লিটনের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে এনে দেন শক্ত ভিত। আগের ম্যাচে তামিম-লিটন গড়েছেন টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটির রেকর্ড। লিটন-নাঈম সেটি টপকাতে না পারলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডটা দখলে নিয়েছেন। ক্রিস পোফুর বলে আউট হওয়ার আগে লিটনের সঙ্গে নাঈম গড়েন ৭৭ রানের জুটি। আর নিজে ৩৪ বলে ৫ বাউন্ডারিতে করে যান ৩৩ রান।

 

এর আগে বোলিংয়ে ছিল দুর্দান্ত এক বাংলাদেশ। টস জিতে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেছেন বোলাররা। পেস নির্ভর বোলিং আক্রমণ অল্পতেই আটকে দিয়েছে সফরকারী জিম্বাবুয়েকে। আল-আমিন ‍হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমানের তোপে ২০ ওভারে জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে করে ১১৯ রান।

 

দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে ফিরেই নিজেকে মেলে ধরলেন আল-আমিন হোসেন। এই পেসার পেয়েছেন ২ উইকেট। ৪ ওভারে খরচ মাত্র ২২ রান। টিনাশে কুমুনুকাম্বেকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেওয়া ডানহাতি পেসারের দ্বিতীয় শিকার রিচমন্ড মুটুম্বামিকে। একটু দেরিতে উইকেটের খাতা খেলা মোস্তাফিজুর রহমান এক ওভারে পেয়েছেন ২ উইকেট। ৪ ওভারে তিনি দিয়েছেন ২৫ রান।

 

আরেক পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও উইকেট উদযাপন করেছেন একবার। ৪ ওভারে তার খরচ ৩০। অভিষিক্ত পেসার হাসান মাহমুদ ৪ ওভারে দিয়েছেন ২৫ রান। উইকেটের ঘরটাও পূরণ হয়ে যেত যদি না ক্যাচ ছেড়ে দিতেন আল-আমিন। স্পিন আক্রমণে মেহেদী হাসান ৩ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। প্রথম বলেই উইকেট উদযাপন করা আফিফ হোসেন ১ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২ রান।

 

বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পেরেছেন কেবল ব্রেন্ডন টেলর। এবারের বাংলাদেশ সফরের শেষ ম্যাচে এসে রান পেলেন সাবেক অধিনায়ক। ৪৮ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় তিনি অপরাজিত থাকেন ৫৯ রানে। আর ক্রেগ আর্ভিনের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১১৯/৭ (টেলর ৫৯*, আর্ভিন ২৯, সিকান্দার ১২, কুমুনুকাম্বে ১০; আল-আমিন ২/২২, মোস্তাফিজ ২/২৫)।

 

বাংলাদেশ: ১৫.৫ ওভারে ১২০/১ (লিটন ৬০*, নাঈম ৩৩, সৌম্য ২০*; পোফু ১/২৭)।

ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ ২-০তে জয়ী।

ম্যাচসেরা: লিটন দাস।

সিরিজসেরা: লিটন দাস।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2014
Design & Developed BY ithostseba.com